<

p style=”text-align: justify;”>জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য অভিযোজন তহবিল বাড়াতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও জি-২০-এর কাছ থেকে জোরালো সমর্থন কামনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, ‘আমরা জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর জন্য অভিযোজন তহবিল বাড়াতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও জি-২০-এর কাছ থেকে শক্তিশালী সমর্থন কামনা করছি।’

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) ‘এফ২০ ক্লাইমেট সল্যুশন উইক’ উপলক্ষে উচ্চ পর্যায়ের এক ভার্চুয়াল সভায় মূল বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এ কথা বলেন। এসময় তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বৃহত্তর সহযোগিতা, জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব সামাল দিতে শক্তিশালী ও গ্রিন মেকানিজম এবং আপহোল্ড সাসটেইনেবিলিটিসহ তিনটি অগ্রাধিকার ইস্যুও উপস্থাপন করেন।

১৪ সেপ্টেম্বর ‘এফ২০ ক্লাইমেট সল্যুশন উইক’ শীর্ষক সপ্তাহব্যাপী আয়োজন শুরু হয়েছে। এফ২০ ও কিং খালেদ ফাউন্ডেশন যৌথভাবে এই সপ্তাহের আয়োজন করেছে।

ভার্চুয়াল সভায় শেখ হাসিনা বলেন, বাস্তুচ্যুত অথবা জলবায়ু শরণার্থী ইস্যুতে বৈশ্বিক সমর্থন জোগাতে জি২০কে বৃহত্তর দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। আমরা জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত নিরীহ মানুষকে কিভাবে সামাল দিতে পারব, তা ব্যাপকভাবে নির্ভর করছে সবার শান্তি ও নিরাপত্তার ওপর।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত ১১ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে। তাদের কারণে প্রকৃতি ও পরিবেশের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। বাংলাদেশের চেয়ে এই পরিস্থিতি সম্পর্কে কেউ ভালো জানে না।

এ প্রসঙ্গে তিনি অগ্রাধিকারভিত্তিতে তিনটি বিষয় উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ২০৩০ সালের এজেন্ডা সফলভাবে বাস্তবায়নের জন্য জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা করাটা মৌলিক বিষয়, কারণ উভয়ের একে অন্যের সঙ্গে সিবিওটিক বা মিথোজীবী সম্পর্ক আছে। দ্বিতীয়ত, জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় ঐক্যবদ্ধ, শক্তিশালী ও সবুজায়ন কৌশল গ্রহণের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে আমাদের বৃহত্তর সহযোগিতা প্রয়োজন। জি-২০ দেশগুলোর এখানে সুনির্দিষ্ট ভূমিকা রয়েছে। তৃতীয়ত, দায়িত্ব ভাগাভাগি ও অংশীদারিত্ব বোধ থেকে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী বৈশ্বিক অর্থায়ন ব্যবস্থার পুনঃস্থাপন করতে হবে।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, সবুজ জলবায়ু তহবিল (জিসিএফ) এবং স্বল্পোন্নত দেশসমূহ তহবিলের (এলডিসিএফ) মতো বৈশ্বিক অর্থায়ন তহবিলে মারাত্মক সম্পদ ঘাটতি অত্যন্ত দুঃখজনক।

জি২০-এর গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, জলবায়ু ও টেকসই পরিবেশ দু’টি বিষয় পরস্পরের ওপর নির্ভরশীল এবং বিশ্ব পণ্যের প্রায় ৯০ শতাংশ, বিশ্ব বাণিজ্যের প্রায় ৮০ শতাংশ, বিশ্বের জনসংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশ এবং বিশ্বের মোট আয়তনের প্রায় অর্ধেকই হচ্ছে জি-২০ অর্থনীতিভুক্ত। সুতরাং, বৈশ্বিক জলবায়ু এবং টেকসই পরিবেশের যেকোনো ভালো ফলাফলের জন্য জি-২০-এর মধ্য দিয়ে যেতে হবে। এর আগে জি-২০ দেখিয়েছে, যৌথভাবে তারা বিশ্ব সম্প্রদায়ের সুবিধার জন্য অনেক উপকারী পদক্ষেপ নিতে পারে।

জলবায়ু পরিবর্তনকে আন্তঃসীমান্ত বিরূপ প্রভাবসম্বলিত একটি বৈশ্বিক সমস্যা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দায়িত্ব। টেকসই পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রেও একই কথা প্রযোজ্য। কোনো জায়গায় টেকসই পরিবেশ ভঙ্গুর হলে সব জায়গার টেকসই পরিস্থিতিই পুরোপুরি বিঘ্নিত হবে। জলবায়ু পরিবর্তন চূড়ান্ত অস্তিত্বের জন্যই হুমকি এবং এর পরিণতি নিকট ও দূর ভবিষ্যতে আরও খারাপ হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। বাসস।

The post অভিযোজন তহবিল বাড়াতে জোরালো বৈশ্বিক সমর্থন কামনা প্রধানমন্ত্রীর appeared first on Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment.

Leave a Reply

%d bloggers like this: