ফিলিস্তিন জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের চুক্তি সই করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইন। মার্কিন প্রেসিডেন্টের আবাসিক দপ্তর হোয়াইট হাউসে (বাংলাদেশ সময় মঙ্গলবার রাত ১০টায়) চুক্তিতে সই করেন আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল্লাহ বিন জায়েদ আলে নাহিয়ান এবং বাহরাইনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্দুল লতিফ বিন রাশেদ আল যিয়ানি। ইসরাইলের পক্ষে চুক্তিতে সই করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।

ফিলিস্তিনের সব দল ও সংগঠন এবং জনসাধারণের প্রতিবাদ উপেক্ষা করে চুক্তিতে সই করল এই দুই আরব দেশ। এ নিয়ে এ পর্যন্ত চারটি আরব দেশ দখলদার ইসরাইলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক স্থাপন করল। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও মুসলমানেরা এই চুক্তির প্রতিবাদ জানিয়েছে এবং বিক্ষোভ করেছে।

এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ভোটের আগে এই চুক্তি তাঁর অন্যতম তুরুপের তাস। ট্রাম্প বলেছেন, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন ভোর হলো। এই চুক্তি ঐতিহাসিক। তাঁর আশা, বাকি আরব দেশগুলোও আমিরাত ও বাহরিনকে অনুসরণ করবে।

হোয়াইট হাউসে এই চুক্তি করিয়ে ট্রাম্প তাঁর ক্ষমতা দেখাতে পারলেন বলে তাঁর সমর্থকদের দাবি। এর ফলে ভোটের আগে ট্রাম্পের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হলো বলে তাঁরা মনে করছেন। এর সুবিধা কি ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে পাবেন? ট্রাম্প-বিরোধীরা মনে করছেন, তাঁর ভাবমূর্তি করোনা ও কৃষ্ণাঙ্গ-হত্যার ফলে যে জায়গায় নেমেছে, সেখান থেকে ওঠার আশা কম।

এ বার আমিরাত ও বাহরাইনের সঙ্গে ইসরায়েলের কূটনৈতিক সম্পর্ক চালু হবে। তাই উচ্ছ্বসিত ইসরায়েলের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, এই চুক্তি আরব-ইসরায়েল সংঘাত চিরতরে শেষ করে দিতে পারে। তাই এই চুক্তি ঐতিহাসিক। শান্তির ভোর হলো। তাঁর মতে, করোনা নামক অতিমারির দিন শেষ হবে, কিন্তু আজ যে চুক্তি হলো, তার জন্য দীর্ঘস্থায়ী শান্তি থাকবে।

এদিকে নেতানিয়াহুকে ধন্যবাদ জানিয়ে আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ইসরায়েল যে শান্তির পথ বেছে নিয়েছে এবং প্যালেস্টাইনের (ফিলিস্তিন) এলাকা দখল করবে না বলেছে, তাতে তিনি খুশি। কয়েক দশক ধরে বিভাজন ও সংঘাতের পর শান্তি ফিরল। ইতিহাসের গতি পরিবর্তন হলো। খুশি বাহরাইনও।

যদিও প্যালেস্টাইন এই চুক্তিকে খারিজ করে বলেছে, তাদের পিছন থেকে ছুরি মারা হয়েছে। এছাড়া এই চুক্তির বিরোধিতা করে ফিলিস্তিনের পাশে দাঁড়িয়েছে সৌদি আরব, ইরান ও তুরস্ক। সৌদি আরব বলেছে, তারা ফিলিস্তিনের সমস্যার প্রকৃত সমাধান চায়। তাদের দাবি, স্বাধীন প্যালেস্টাইন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিতে হবে এবং পূর্ব জেরুসালেমকে তার রাজধানী করতে হবে। ইরান ও তুরস্কও চুক্তির বিরোধী।

আরব আমিরাত ও বাহরাইন হচ্ছে সৌদি আরবের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ দুটি দেশ। অবশ্য এখন পর্যন্ত সৌদি আরবের পক্ষ থেকে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনের প্রকাশ্য কোনও ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তবে গত কয়েক বছর ধরেই ইসরাইলের সঙ্গে সৌদি আরবের গোপন সম্পর্কের কথা আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত হয়ে আসছে।

২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য আটলান্টিককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সৌদি যুবরাজ মুহাম্মাদ বিন সালমান বলেছেন, বহু বিষয়ে ইসরাইলের সঙ্গে সৌদি আরবের অভিন্ন স্বার্থ রয়েছে। সূত্র: ডিডব্লিউ, পার্সটুডে

অর্থসূচক/এএইচআর

The post ইসরায়েলের সঙ্গে আমিরাত ও বাহরাইনের চুক্তি first appeared on ArthoSuchak.

Leave a Reply

%d bloggers like this: