<

p style=”text-align: justify;”>চট্টগ্রাম ব্যুরো: নেতৃত্বের দ্বন্দ্বে চট্টগ্রামের আল জামেয়াতুল আহলিয়া দারুল উলুম হাটহাজারী মাদরাসায় ব্যাপক উত্তেজনা চলছে। মাদরাসার মহাপরিচালক হেফাজতে ইসলামের আমীর শাহ আহমদ শফীকে অব্যাহতি এবং তার ছেলে আনাস মাদানীকে বহিষ্কারের দাবিতে বিক্ষোভ করছেন মাদরাসার ছাত্রদের একাংশ। বিক্ষোভকারীরা মাদরাসার সহকারি পরিচালক পদ থেকে তিনমাস আগে অব্যাহতি পাওয়া হেফাজতের মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরীর অনুসারী বলে জানা গেছে। এ নিয়ে সংঘাতের আশঙ্কায় মাদরাসার সামনে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আকস্মিকভাবে কয়েক’শ ছাত্র মাদরাসার ভেতরে জড়ো হন। তারা মাদরাসার সহকারী শিক্ষা পরিচালকের দায়িত্বে থাকা আনাস মাদানীর বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন। এ সময় তারা ছয় দফা দাবিও তুলে ধরেন।

মাদরাসার পরিস্থিতি নিয়ে বারবার চেষ্টার পরও দায়িত্বশীল কারও সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ‘দারুল উলুম মঈনুল ইসলাম হাটহাজারী প্ল্যাটফরম’ নামে একটি পেইজ থেকে ছাত্রদের বিক্ষোভের ছবি ও ভিডিও ধারাবাহিকভাবে প্রচার করা হচ্ছে। সেখানে দাবি করা হয়েছে, উত্তেজিত ছাত্ররা মাদরাসার ভেতরে আনাস মাদানীর কক্ষ ভাঙচুর করেছেন। তাদের প্রচারিত একটি লিফলেটে ছয় দফা দাবির মধ্যে আছে- অবিলম্বে আনাস মাদানীকে বহিষ্কার, আনাস কর্তৃক অব্যাহতি দেওয়া তিনজন শিক্ষককে পুর্নবহাল, আনাস কর্তৃক নিয়োগ সকল অযোগ্য-অথর্ব শিক্ষক ও স্টাফকে ছাঁটাই, ‘অসুস্থ ও অক্ষম’ হওয়ায় মহাপরিচালক পদ থেকে শাহ আহমদ শফীকে সম্মানজনকভাবে অব্যাহতি এবং আব্দুল কুদ্দুস, নুরুল আমীন ও আবুল কাসেম ফেনীকে অব্যাহতি দিয়ে শুরা কমিটি পুনর্গঠন।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, দুপুর আড়াইটার দিকে আকস্মিকভাবে একদল ছাত্র মাদরাসা থেকে বেরিয়ে হাটহাজারীতে সড়কে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করে। প্রায় ১৫-২০ মিনিট অবস্থানের পর পুলিশের বাধায় তারা আবার মাদরাসার ভেতরে ঢুকে যান। এরপর সেখানে বিক্ষোভ শুরু করেন। এর আগে তারা মাদরাসার প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে দেন। বিকেলে নামাজের পর বিক্ষোভে কিছুক্ষণ বিরতি ছিল। তবে নামাজের পর আবারও মিছিল-স্লোগান চলছে। সব দাবি ছাপিয়ে আনাস মাদানীর বহিষ্কারের দাবিটিই স্লোগানে বেশি শোনা যাচ্ছে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন।

ঘটনাস্থলে থাকা চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মশিউদ্দৌলা রেজা সারাবাংলাকে বলেন, ‘আনাস মাদানীর পদত্যাগের দাবিতে বাবুনগরীর লোকজন মিছিল করছে। তারা মাদরাসার ভেতরে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছে। আমরা মাদরাসার বাইরে আছি। তবে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি।’

বাংলাদেশের প্রাচীন ও সর্ববৃহৎ এই ইসলাম ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি নানা কারণে আলোচিত। ৩৪ বছর ধরে প্রতিষ্ঠানের মহাপরিচালক পদে থাকা শাহ আহমদ শফীর নেতৃত্বেই প্রায় একযুগ আগে গঠিত হয়েছিল আলোচিত সংগঠন হেফাজতে ইসলাম। শুরু থেকেই আহমদ শফী সংগঠনটির আমীর এবং মাদরাসার তৎকালীন সহকারী পরিচালক জুনায়েদ বাবুনগরী মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

প্রায় শতবর্ষী শাহ আহমদ শফী গত একবছরে বেশ কয়েকবার অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ায় মাদরাসার পরিচালনা পরিষদে রদবদলের গুঞ্জন ওঠে। এ নিয়ে মাদরাসায় দু’টি পক্ষ তৈরির খবরও আসে গণমাধ্যমে। মাদরাসায় কর্তৃত্ব নিয়ে পাল্টাপাল্টি অবস্থানের একপক্ষে আছেন আহমদ শফীর অনুসারীরা এবং আরেকপক্ষে বাবুনগরীর অনুসারীরা। শফীর অনুসারীদের নেতৃত্ব দেন তার ছেলে আনাস মাদানী।

বিরোধের মধ্যেই চলতি বছরের ১৭ জুন মাদরাসার সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম শুরা কমিটির বৈঠক বসে। এতে সহকারি পরিচালক পদ থেকে জুনায়েদ বাবুনগরীকে বাদ দিয়ে জ্যেষ্ঠ্য মুহাদ্দিস শেখ আহমদকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এছাড়া মাদরাসার মহাপরিচালক শাহ আহমদ শফী আমৃত্যু দায়িত্ব পালন করে যাবেন বলে সিদ্ধান্ত হয়।

শুরা কমিটির ওই বৈঠকের পর থেকে মাদরাসায় কার্যত জুনায়েদ বাবুনগরী তার কর্তৃত্ব হারিয়েছেন। এর ফলে অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও করা হয়েছিল সেসময়। তিনমাস পর এসে বাস্তবেই সেই বিরোধ আরও দৃশ্যমান হয়েছে।

প্রবীণ ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মহলে শাহ আহমদ শফীর গ্রহণযোগ্যতা আছে। জুনায়েদ বাবুনগরী ২০১৩ সালের ৫ মে ঢাকার শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের অবরোধ ও সমাবেশের কর্মসূচির পর ব্যাপকভাবে আলোচনায় আসেন। রক্তক্ষয়ী ওই কর্মসূচির পর বাবুনগরীকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। তখন থেকেই তিনি তীব্রভাবে আওয়ামী লীগ সরকারবিরোধী এবং জামায়াতের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিতি পান।

The post নেতৃত্বের দ্বন্দ্বে হাটহাজারী মাদরাসায় বিক্ষোভ-উত্তেজনা

appeared first on Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment.

Leave a Reply

%d bloggers like this: