পররাষ্ট্রমন্ত্রী

<

p style=”text-align: justify;”>ঢাকা: কথা ছিল, ভারত অব্যাহতভাবে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতানি করবে। এক্ষেত্রে কোনো ব্যত্যয় ঘটলে আগেভাগেই বাংলাদেশকে জানাবে তারা। শেষ পর্যন্ত এই কথা রাখতে পারেনি ভারত। গত ১৪ সেপ্টেম্বর হঠাৎ করেই পেঁয়াজ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে দেশটি। এতে উদ্বেগ প্রকাশ করে ভারতকে কূটনৈতিক চ্যানেলে বার্তা পাঠিয়ে বাংলাদেশ খুব দ্রুত ভালো ফলাফলের প্রত্যাশা করছে। এরই মধ্যে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বলেছেন যে, পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করায় অনুতপ্ত ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেন বৃহস্পতিবার মন্ত্রণালয়ে গণমাধ্যম কর্মীদের বলেন, ‘আগাম ঘোষণা না দিয়ে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করায় অনুতপ্ত ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তারা এটা জানত না যে, এমন ঘটনার ক্ষেত্রে আগেভাগে আমাদের জানানোর কথা ছিল।’

এদিকে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধে গত ১৪ সেপ্টেম্বর ভারত সরকার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেয়। ভারত সরকারের এই ঘোষণা দুই বন্ধু রাষ্ট্রের মধ্যে গত ২০১৯ এবং ২০২০ সালের আলোচনায় যে কথা এবং পারস্পরিক সমাঝোতা হয়, তার প্রতি অবিচার হয়েছে জানিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ঢাকায় অবস্থিত ভারতের হাইকমিশনে মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) একটি কূটনৈতিক চিঠি পাঠায়। চিঠির একটি অনুলিপি সারাবাংলা হাতে পেয়েছে।

ঢাকায় অবস্থিত ভারতের হাইকমিশনে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পাঠানো চিঠিতে বলা হয়, ‘গত ১৪ সেপ্টেম্বর ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় পেঁয়াজ রফতানি বিষয়ে হঠাৎ করে যে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে, সে বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে বাংলাদেশ। বিষয়টি বাংলাদেশের বাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। বাংলাদেশ সম্মানের সঙ্গে জানাতে চায় যে, চলতি বছরের ১৫-১৬ জানুয়ারি দুদিনব্যাপী বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য সচিব পর্যায়ের যে বৈঠক হয়েছিল, সেই বৈঠকে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা না দেওয়ার জন্য বাংলাদেশ ভারতকে অনুরোধ করেছিল। বাংলাদেশ আরও অনুরোধ করেছিল যে, নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য পণ্যের ওপর যদি নিষধাজ্ঞা দিতেই হয় তাহলে বাংলাদেশকে যেন আগাম জানানো হয়। এই বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত বছর অক্টোবরে ভারতে ভিভিআইপি সফরেও তুলেছিলেন এবং তখনও অনুরোধ করা হয়েছিল যে, এমন ঘটনা ঘটলে তা যেন আগাম জানানো হয়।’

চিঠিতে আরও বলা হয়, ‘দুই বন্ধুপ্রতিম দেশের মধ্যে গত ২০১৯ এবং ২০২০ সালে যে কথা এবং সমাঝোতা হয়েছিল, ভারত সরকারের ১৪ সেপ্টেম্বরের ঘোষণা, সেই কথা এবং সমাঝোতার প্রতি যথাযথ সম্মান দেখাতে পারেনি। দুই দেশের সম্পর্কের মধ্যে যে সোনালি অধ্যায় বিরাজ করছে, বাংলাদেশ সেই সম্পর্কের খাতিরে হাইকমিশনের মাধ্যমে ভারতের যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে বাংলাদেশে আবার পেঁয়াজ রফতানি চালুর অনুরোধ জানাচ্ছে।’

এ বিষয়ে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম সাংবাদিকদের বলেন, ‘পেঁয়াজ নিয়ে ভারতের নোটিশটি আমরা জানা মাত্রই নয়াদিল্লির বাংলাদেশ মিশন ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি জানিয়েছে। আমাদের দুই দেশের মধ্যে অলিখিত কথা ছিল যে, ভারত অব্যাহতভাবে বাংলাদেশে পেঁয়াজ রফতনি করবে এবং এ নিয়ে যদি কোনো পরিবর্তন থাকে তবে ভারত বাংলাদেশকে আগে জানিয়ে দিবে। বন্ধু প্রতিম দেশ দুটির মধ্যে এরকম একটি সমাঝোতা আছে। আমরা খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে ভারতের এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের আহবান জানিয়েছি এবং প্রত্যাশা করছি খুব দ্রুত ভালো ফলাফল পাব।’

এদিকে ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজার বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে লিখেছে, ‘গত ছয় মাসে পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম প্রায় দু’গুণ বেড়েছে। সামনেই বিহারের বিধানসভা ভোট এবং মধ্যপ্রদেশের গুরুত্বপূর্ণ উপনির্বাচন। তার আগে পেঁয়াজের অগ্নিমূল্যের খেসারত দিতে নারাজ বিজেপি নেতৃত্ব। সে কারণেই কোনো ঝুঁকি না নিয়ে সোমবার রাতে পেঁয়াজের রফতানির উপরে সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে নরেন্দ্র মোদি সরকার।’

এদিকে বাংলাদেশে ভারতের পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধ ঘোষণার পর গত দুদিনে পেঁয়াজের দাম ৪০ টাকা থেকে বেড়ে ১০০ টাকায় ঠেকেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার খোলা বাজারে ন্যায্যামূল্যে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করেছে এবং কয়েকটি দেশ থেকে পেঁয়াজ আমদানির সিদ্ধান্ত নেওয়ার পাশাপাশি পণ্যটির আমদানি শুল্ক প্রত্যাহার করেছে।

The post পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করায় অনুতপ্ত ভারত: পররাষ্ট্রমন্ত্রী

appeared first on Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment.

Leave a Reply

%d bloggers like this: