<

p style=”text-align: justify;”>সাভার: দেশের পরিবেশে বিদেশি ভেড়া অভিযোজন এবং তাদের সাথে দেশি ভেড়ার প্রজননের মাধ্যমে অধিক মাংস উৎপাদনকারী সংকর জাতের ভেড়ার জাত উদ্ভাবন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআইএ) কর্তৃপক্ষ।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দেশি জাতের ভেড়ার থেকে বেশি মাংস উৎপাদনকারী হওয়ায় বাণিজ্যিকভাবে ভেড়ার সিনথেটিক ব্রিডের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। গবেষণা সফল হলে তা যেমন প্রণিজ আমিষ উৎপাদন বৃদ্ধি করবে, তেমনি দেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নেও অবদান রাখবে। ছাগলের থেকে ভেড়ার মাংসে কোলেস্টেরল কম এবং মিনারেল বেশি থাকায় তা স্বাস্থ্যের জন্যও অধিক উপকারী।

দেশের প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন ও প্রণিজ আমিষ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রতিষ্ঠার কাল থেকেই বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট নিরালসভাবে গবেষণা করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় ইনস্টিটিউটের ছাগল ও ভেড়া উৎপাদন গবেষণা বিভাগ সিলেকটিভ ব্রিডিং পদ্ধতির মাধ্যমে উপকূলীয়, বরেন্দ্র এবং যমুনা অববাহিকার দেশি ভেড়া সংরক্ষণ ও উন্নয়নের জন্য গবেষণা কার্যক্রম চালাচ্ছে।

গবেষণা থেকে দেখা গেছে, বিএলআরআই’র উন্নত জাতের ভেড়ার বাচ্চা দেওয়ার হার অধিক, জন্ম ওজন গড়ে ১-২ কেজি, প্রাপ্তবয়স্ক বয়সে ওজন ২৫-৩৫ কেজি। এছাড়া, মাঠপর্যায়ে ভেড়ার জাত উন্নয়নের জন্য ইনস্টিটিউটের উন্নত জাতের পাঁঠাও বিতরণ করা হয়েছে।

গবেষণার মাধ্যমে এখন পর্যন্ত বেশ কিছু প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হয়েছে তার মধ্যে ‘বাংলা ল্যাম্ব’ অন্যতম। পরবর্তীতে দেশি ভেড়ার সাথে সংকরায়নের মাধ্যমে সাফক সংকর, প্যারেন্ডাল সংকর, ডরপার সংকর এবং ডামারা সংকর নামের চার ধরনের সংকর ভেড়া তৈরি করা হয়েছে যাদের গড় জন্ম ওজন ২-৩ কেজি, প্রাপ্তবয়স্ক বয়সে ওজন ৩০-৪০ কেজি। অভিযোজন দক্ষতা, উৎপাদনশীলতা পর্যবেক্ষণ করে সংকর জাতের ভেড়া থেকে একটি সিনথেটিক ব্রিড তৈরির উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে গবেষণা কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআইএ) ব্ল্যাক বেঙ্গল ছাগলের জাত সংরক্ষণ ও উন্নয়ন গবেষণা কেন্দ্রের প্রকল্প পরিচালক ড. ছাদেক আহমেদ বলেন, ‘গত কয়েক বছর আগে দেশিয় ভেড়া উন্নয়নের জন্য অস্ট্রেলিয়ান সাফক প্যারেন্ডাল, ডরপার এবং সাউথ আফ্রিকান ডামারা এই চার জাতের বিদেশি ভেড়া আমদানি করা হয়েছে। যেগুলো ইনস্টিটিউটের ভেড়া গবেষণা খামারে প্রতিপালিত হচ্ছে। উদ্দেশ্য হচ্ছে দেশের পরিবেশে বিদেশি ভেড়া অভিযোজন এবং তাদের সাথে দেশি ভেড়ার প্রজননের মাধ্যমে অধিক মাংস উৎপাদনকারী সংকর জাতের ভেড়া উৎপাদন।’

তিনি আরও বলেন, ‘জাতভেদে বিদেশি ভেড়াগুলোর পাঁঠার ওজন ৯০-১১০ কেজি এবং ভেড়ির ওজন ৬০-৮০ কেজি। বর্তমানে বিদেশি ভেড়াগুলো আমাদের দেশের পরিবেশে ভালভাবেই অভিযোজন করতে সক্ষম হয়েছে। বিদেশি ভেড়া থেকে নতুন জাতের ভেড়া উদ্ভাবনের কাজ চলছে।’ এতে আরও কয়েক মাস সময় লাগবে বলেও জানান তিনি।

The post ভেড়ার নতুন জাত নিয়ে কাজ করছে ‘বিএলআরআইএ’, মিলবে বেশি মাংস appeared first on Sarabangla | Breaking News | Sports | Entertainment.

Leave a Reply

%d bloggers like this: