ইংল্যান্ডের মাটিতে ওয়ানডে সিরিজ জয় যেকোনো দেশের জন্যই ভিন্নধর্মী ব্যাপার। তবে তাদের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী অস্ট্রেলিয়ার কাছে এর মাহাত্ম্য হয়তো আরও এক কদম বেশি। আর সিরিজ জয়ের ব্যাপারটি যদি হয় দীর্ঘ পাঁচ বছর পর তাহলে তো কথাই নেই।

গতকাল (১৬ সেপ্টেম্বর) ম্যানচেস্টারের ওল্ড ট্রাফোর্ডে পাঁচ বছর আগের সেই স্মৃতিই ফিরিয়ে আনে সফরকারী অস্ট্রেলিয়া। এদিন ইয়ন মরগানের দলকে ৩ উইকেটে হারিয়ে পাঁচ বছর পর ইংল্যান্ডের মাটিতে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের কীর্তি গড়েছে অ্যারন ফিঞ্চের দল। ২০১৫ সালের নভেম্বরে সর্বশেষ ইংল্যান্ডে ওয়ানডে সিরিজ জিতেছিল অস্ট্রেলিয়া।

হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের এই ম্যাচে জয়ের দুই নায়ক ছিলেন অলরাউন্ডার গ্লেন ম্যাক্সওয়েল এবং উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান অ্যালেক্স ক্যারি। ইংল্যান্ডের দেওয়া ৩০৩ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শত রানের কোটা পার করার আগেই ৫ উইকেট হারিয়ে বসে ফিঞ্চবাহিনী। এরপরই শুরু হয় ম্যাক্সওয়েল-ক্যারির কারিশমা। দলের ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হয়ে ষষ্ঠ উইকেটে ২১২ রানের জুটি গড়েন তাঁরা। ওল্ড ট্রাফোর্ডের দর্শকশূন্য স্টেডিয়ামে দোর্দণ্ড প্রতাপে ব্যাটিং করে সেঞ্চুরি তুলে নেন উভয়ই। একই সঙ্গে প্রায় হারতে থাকা দলকে জয়ের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যান।

২৮৫ রানের মাথায় ম্যাক্সওয়েলকে টম কারানের হাতে ক্যাচ বানিয়ে শেষ পর্যন্ত ব্রেক থ্রু আনতে সক্ষম হন স্পিনার আদিল রশিদ। ৯০ বলে ৭টি ছক্কা এবং ৪টি চারের সাহায্যে ১০৮ রানের ইনিংস খেলেন ম্যাক্সওয়েল। ৮ রানের ব্যবধানে সাজঘরে ফেরেন ক্যারিও। জফরা আর্চারের বলে ক্রিস উডের হাতে ক্যাচ দিয়ে আউট হন তিনি। ২টি ছক্কা এবং ৭টি চারে ১১৪ বলে ১০৬ রান আসে এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যানের ব্যাট থেকে।

এরপর প্যাট কামিন্স এবং মিচেল স্টার্কের দৃঢ়তায় আর কোনো উইকেট না হারিয়েই ২ বল হাতে রেখে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় অস্ট্রেলিয়া। ইংল্যান্ডের হয়ে দুটি করে উইকেট শিকার করেছেন ক্রিস ওকস এবং জো রুট। এছাড়া একটি করে উইকেট নেন জফরা আর্চার এবং আদিল রশিদ।

এর আগে ম্যাচটির শুরুতে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেন ইংল্যান্ড দলপতি ইয়ন মরগান। এরপর ব্যাটিংয়ে নেমে ওপেনার জনি বেয়ারস্টোর দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৭ উইকেটে ৩০২ রান সংগ্রহ করে স্বাগতিকরা। ১২৬ বলে ১১২ রান করেন বেয়ারস্টো। যেখানে ছিল ২টি ছক্কা এবং ১২টি চার। ব্যাট হাতে দারুণ খেলেছেন মিডল অর্ডার ব্যাটসম্যান স্যাম বিলিংস এবং অলরাউন্ডার ক্রিস ওকসও। উভয়ই পেয়েছেন হাফ সেঞ্চুরির দেখা। ২টি ছক্কা এবং ৪টি চারের সাহায্যে ৫৮ বলে ৫৭ রান করেন বিলিংস। অপরদিকে ৬টি চারের মাধ্যমে মাত্র ৩৯ বলে ৫৩ রানে অপরাজিত থাকেন ওকস।

অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে পেসার মিচেল স্টার্ক ও স্পিনার অ্যাডাম জাম্পা ৩টি করে উইকেট শিকার করেন। আর একটি উইকেট পান আরেক পেসার প্যাট কামিন্স। ৯০ বলে ১০৮ রান কর ম্যাক্সওয়েল নির্বাচিত হন ম্যাচ সেরা খেলোয়াড়।

সংক্ষিপ্ত স্কোরঃ
ইংল্যান্ড: ৩০২/৭ (৫০ ওভার) (বেয়ারস্টো ১১২, বিলিংস ৫৭; স্টার্ক ৩/৭৪, জাম্পা ৩/৫১)
অস্ট্রেলিয়া: ৩০৫/৭ (৪৯.৪ ওভার) (ম্যাক্সওয়েল ১০৮, ক্যারি ১০৬; ওকস ২/৪৬, রুট ২/৪৬)

অর্থসূচক/এএইচআর

The post ম্যাক্স-ক্যারির কারিশমায় ৫ বছরের অপ্রাপ্তি ঘোচাল অস্ট্রেলিয়া first appeared on ArthoSuchak.

Leave a Reply

%d bloggers like this: