পুরো ম্যাচজুড়েই ছিল রং বদল। ইনিংসের শুরুতেই দুই উইকেট হারানো ইংল্যান্ড স্কোর গড়েছে ৩০২ রানের। লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে চরম চাপে পড়া অস্ট্রেলিয়াকে উদ্ধার করেছেন অ্যালেক্স ক্যারি আর গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। দুজন শতক হাঁকানোর অল্প সময়ের ব্যবধানেই আউট। এরপর বোলার মিচেল স্টার্কের ব্যাট হাতে ঝলক। এমন রোমাঞ্চকর ম্যাচ জিতে নিয়ে তিন ম্যাচের সিরিজ ২-১ ব্যবধানে জিতে নিয়েছে সফরকারী অস্ট্রেলিয়া।

রোমাঞ্চকর ম্যাচ জিতে সিরিজ জিতল অজিরা


ঘরের মাঠে এর আগে সর্বশেষ ইংল্যান্ড ওয়ানডে সিরিজ হেরেছিল ২০১৫ সালে, এই অস্ট্রেলিয়ার কাছেই। নিজেদের দেশে টানা নয় ওয়ানডে সিরিজ জেতার পর তাদের জয়ের ধারা ভাঙল।

ওল্ড ট্রাফোর্ডে টস জিতে আগে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় ইংল্যান্ড। টসের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল নাকি ভুল তা ভাবার সময় পাওয়ার আগেই মাঠে নামতে হয় ইয়ন মরগানকে। কারণ দল যে প্রথম দুই বলেই দুইটি উইকেট হারিয়ে বসেছে। প্রথম বলে জেসন রয়কে ফেরানোর পরে দ্বিতীয় বলে জো রুটকে সাজঘরে পাঠান স্টার্ক।

তৃতীয় উইকেটে দ্রুতই ৬৭ রান সংগ্রহ করেন মরগান ও বেয়ারস্টো। ২৩ রান করে অ্যাডাম জাম্পার বলে স্টার্কের তালুবন্দী হয়ে সাজঘরে ফেরেন ইংলিশ অধিনায়ক মরগান। মাত্র ৮ রান করে জাম্পার বলে অধিনায়ককে অনুসরণ করে জস বাটলার।

পঞ্চম উইকেটে ইনিংসের সর্বোচ্চ জুটি গড়েন বেয়ারস্টো ও বিলিংস। বিলিংস আউট হলে ভেঙে যায় তাদের ১১৪ রানের জুটি। মিচেল মার্শের তালুবন্দী হয়ে জাম্পার তৃতীয় শিকার হওয়ার আগে তিনি করেন ৫৮ বলে ৫৭ রান। বিলিংসের ইনিংসে ছিল চারটি চার ও দুইটি ছয়।

বিলিংস সাজঘরের ফেরার পরে আর বেশিক্ষণ থাকেননি বেয়ারস্টোও। ১০ রান পরেই বিদায় নেন শতক হাঁকানো এই ব্যাটসম্যান। কিছুটা ধীর গতিতে খেলে ১২৬ বলে ১১২ রানের ইনিংস খেলেন তিনি। তার ১৪টি চার ও দুইটি ছয়ের মারের ইনিংসে সমাপ্তি ঘটে প্যাট কামিন্সের বলে বোল্ড হয়ে।

সপ্তম উইকেটে জুটি গড়েন ক্রিস ওকস ও টম কারান। এই দুইজনে বলের সাথে পাল্লা দিয়ে রান তুলতে থাকেন। ১৯ বলে ১৯ রান করে কারান সাজঘরের পথ ধরেন স্টার্কের তৃতীয় শিকার হয়ে। ঝড়ো শতক তুলে নেন ওকস। ৩৯ বলে ৫৩ রান করে অপরাজিত থাকেন তিনি।

৫০ ওভার শেষে ৩০২ রানের সংগ্রহ পেয়েছে ইংল্যান্ড। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে জাম্পা ৫১ রানের বিনিময়ে তিনটি উইকেট ও ৭৪ রানের বিনিময়ে স্টার্ক তিনটি উইকেট শিকার করেন।

বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দ্রুতগতিতেই সূচনা করেছিলেন ডেভিড ওয়ার্নার আর অযারন ফিঞ্চ। তবে এ জুটি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। তৃতীয় ওভারেই ফিঞ্চকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলেন ওকস। ১২ রান করেন ফিঞ্চ। নিজের পরের ওভারে এসে মার্কাস স্টয়নিসের উইকেটও তুলে নেন ওকস।

এরপর মারনাস লাবুশানেকে সাথে নিয়ে দেখেশুনে খেলছিনে ওয়ার্নার। কিন্তু জো রুটের দারুণ এক ডেলিভারিতে বোল্ড হন ওয়ার্নার। ওয়ার্নারকে ফেরানোর পরের ওভারে এসে মিচেল মার্শের উইকেট তুলে নেন রুট। দলীয় ৭৩ রানের মাথায় মারনাস লাবুশানে রান আউট হলে অস্ট্রেলিয়ার আশার সূর্য অস্তের পথে চলা শুরু করে।

রোমাঞ্চকর ম্যাচ জিতে সিরিজ জিতল অজিরা
সেখান থেকে দলকে আবার স্বপ্ন দেখান অ্যালেক্স ক্যারি আর গ্লেন ম্যাক্সওয়েল। রানের চাকা সচল রেখে এগিয়ে যান দুজন। লক্ষ্যটাকে কখনোই নাগালের বাইরে যেতে দেননি। তাদের অসাধারণ জোড়া শতকে খেলায় ফিরে আসে অস্ট্রেলিয়া। ষষ্ঠ উইকেটে এ দুজন যোগ করেন  ২১২ রান। আন্তর্জাতিক ওয়ানডেতে ষষ্ঠ উইকেটে এটি তৃতীয় সর্বোচ্চ রানের জুটি। শতরান করার পথে তিন হাজারের মাইলফলক স্পর্শ করেন ম্যাক্সওয়েল।

৪৮তম ওভারে গ্লেন ম্যাক্সওয়েলকে ফিরিয়ে দেন আদিল রশিদ। ৯০ বলে ১০৮ রানের ইনিংস খেলেন ম্যাক্সওয়েল। পরের ওভারেই ১১৪ বলে ১০৬ রান করা অ্যালেক্স ক্যারিকে ফিরিয়ে দেন জোফরা আর্চার। থার্ড ম্যানে দারুণ ক্যাচ নেন মার্ক উড। দুই ওভারে দুই ব্যাটসম্যানকে হারানোর পর আবারো জাগে শঙ্কা।

শেষ ওভারে জিততে প্রয়োজন ছিল ১০ রান। ব্যাটিংয়ে ছিলেন প্যাট কামিন্স ও মিচেল স্টার্ক। হাতে পেসার থাকলেও মরগান ভরসা রেখেছিলেন রশিদের ওপরে। কিন্তু তার প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচ নিজেদের করে নেন স্টার্ক।  পরের দুই বল থেকে একটি করে দুই রান নিয়ে জয়ের আরো কাছে চলে যায় অস্ট্রেলিয়া। ওভারের চতুর্থ বলে বাউন্ডারি মেরে দলের ম্যাচ ও সিরিজ জয় নিশ্চিত করেন স্টার্ক। ৩ বলে ১১ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত ছিলেন তিনি।

সংক্ষিপ্ত স্কোর: ইংল্যান্ড ৩০২/৭, ৫০ ওভার
বেয়ারস্টো ১১২, বিলিংস ৫৭, ওকস ৫৩*
জাম্পা ৩/৫১, স্টার্ক ৩/৭৪

অস্ট্রেলিয়া ৩০৫/৭, ৪৯.৪ ওভার
ম্যাক্সওয়েল ১০৮, ক্যারি ১০৬,  ওয়ার্নার ২৪
ওকস ২/৪৬, রুট ২/৪৬

The post রোমাঞ্চকর ম্যাচ জিতে সিরিজ জিতল অজিরা appeared first on বিডিক্রিকটাইম.

Leave a Reply

%d bloggers like this: