Fri. Dec 6th, 2019

BD24Time

২৪ ঘন্টা বাংলা সংবাদ

আতঙ্কে সীমান্তে বিজিবির সাথে পাহারা দিচ্ছে গ্রামবাসী!

1 min read

রাজশাহী সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করতে পারে ভারতের আসামের নাগরিকপঞ্জি থেকে বাদপড়া লোকজন, এমন শঙ্কা থেকে রাত জেগে বিজিবির সঙ্গে সীমান্ত পাহারা দিচ্ছেন রাজশাহীর চরখানপুর গ্রামের আড়াইশ বাসিন্দা। পালাক্রমে এই কাজ করছেন গত ২৮ নভেম্বর থেকে।

গ্রামটির বাসিন্দারা জানান, গত ২৮ নভেম্বর তাঁদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন বিজিবি ব্যাটালিয়ন-১–এর আওতাধীন চরখানপুর সীমান্ত ফাঁড়ির সদস্যরা। সভায় সীমান্তে অনুপ্রবেশ ঠেকাতে গ্রামবাসীর সহযোগিতা চায় বিজিবি।

বিজিবির আহ্বানে সাড়া দিয়ে গ্রামবাসী ওইদিন রাত থেকে নেমে পড়েছেন সীমান্ত পাহারায়। প্রতিদিন সন্ধ্যা ছয়টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত একদল গ্রামবাসী সীমান্ত পাহারা দিচ্ছেন। আরেক দল পাহারায় নামছেন রাত ১২টা থেকে পরদিন ভোর ছয়টা পর্যন্ত। গ্রামবাসীকে উৎসাহ দিতে খাবারের ব্যবস্থা করেছে বিজিবি।

রোববার রাতে পদ্মা নদী পার হয়ে চরখানপুরে গিয়ে দেখা যায়, টর্চলাইট ও লাঠি হাতে নিয়ে সীমান্ত পাহারা দিচ্ছেন গ্রামের বাসিন্দারা। সীমান্তের ১৬৩-১ এস পিলারের পাশে দায়িত্বে ছিলেন স্থানীয় ইউপি সদস্য এরশাদুল হকসহ ১০ জন বাসিন্দা। তাদের সঙ্গে বিজিবির সদস্যরাও ছিলেন।

গ্রামটির পশ্চিম পাশে বড় একটি মাঠের পুরো অংশই ভারতীয় সীমানার মধ্যে পড়েছে। মাঠের ধার দিয়ে বাংলাদেশের সীমান্ত রেখা। এ সীমান্ত রেখা বরাবর দাঁড়িয়ে থেকে তারা অনবরত টর্চলাইট ঘোরাচ্ছিলেন। একবার ডান পাশ থেকে এক জোড়া টর্চের আলোয় মাঠ আলোকিত হয়ে উঠছিল আবার বাঁ পাশ থেকে আরেক দলের টর্চের আলো পড়ছিল।

পাহারায় থাকা গ্রামের কৃষক মো. জুয়েল জানান, দিনের বেলায় মাঠের কাজ শেষে রাতে সীমান্ত পাহারা দিতে এসেছেন। স্থানীয় পাঠশালার দশম শ্রেণি পড়ুয়া মিন্টু শেখের (১৬) পাহারা দেয়ার পালা পড়েছিল সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত।

ইউপি সদস্য এরশাদুল হক জানান, বিজিবির প্রস্তাব অনুযায়ী গ্রামের মানুষকে বুঝিয়ে এ দায়িত্ব পালনে উদ্বুদ্ধ করা হয়েছে। পালা করে গ্রামের সবাই এ দায়িত্ব পালন করছেন। ওই সীমান্ত পিলারের কাছে পাহারায় আবদুস সাত্তার নামের একজন বয়স্ক বাসিন্দাকেও দেখা যায়। তিনিও একটি লাঠি হাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন সবার সঙ্গে।

এ বিষয়ে বিজিবির চরখানপুর সীমান্ত ফাঁড়ির ইনচার্জ নায়েক সুবেদার নজরুল ইসলাম বলেন, গত ২৭ নভেম্বর তারা জানতে পারেন ভারত থেকে ওই সীমান্তপথে অনুপ্রবেশ ঘটতে পারে। এ নিয়ে পরদিনই তিনি গ্রামের ইউপি সদস্য এরশাদুল হক ও কোহিনুর বেগমকে ডেকে গ্রামবাসীর সঙ্গে বৈঠকে বসেন। ওই বৈঠকে বিজিবির সঙ্গে সীমান্ত পাহারায় থাকতে সম্মত হন গ্রামবাসী। ওই রাত থেকেই শুরু হয়েছে সীমান্ত পাহারা।

বার্তা বাজার/ডব্লিও.এস

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

© bd24time.com 2017-19 All rights reserved. | Newsphere by AF themes.